রাসেল মেম্বার, গিয়াস ও জিয়াবুল সিন্ডিকেট

ইয়াবা পাচারের নতুনঘাট চৌফলদন্ডী

সোমবার, ০১ জুলাই ২০১৯ | ৬:৩৮ অপরাহ্ণ | 375 বার

ইয়াবা পাচারের নতুনঘাট চৌফলদন্ডী

সড়ক পথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কড়াকড়ির কারণে সাগরপথে পাচার হচ্ছে ইয়াবার বড় চালান। প্রতিনিয়ত আটকও হচ্ছে ইয়াবার এই চালান গুলো। সাগর উপকুলীয় এলাকা হওয়ায় কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী হয়ে উঠেছে বিশাক্ত মাদক ইয়াবা পাচারের নতুন ঘাট হিসেবে। আর এর নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় মেম্বার ও প্রভাবশালীরা।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, প্রতিদিন চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের কোন না কোন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার বড় চালান প্রবেশ করে। পরে তা সময় মত লবণ ও মাছের ট্রাকে করে চলে যায় চট্টগ্রাম নোয়াখালী, লক্ষীপুর, কুমিল্লা, ঢাকা, নারায়গঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আর এসব পাচার চক্রে রয়েছে একটি প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ী। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী এসব চক্রে নেতৃত্বে রয়েছে মো. ইলিয়াছের ছেলে বিএনপি নেতা রাসেল মেম্বার, মৃত ইসলামের ছেলে গিয়াস উদ্দিন ও মনির আহমদ মেম্বারের ছেলে জিয়াবুল হক।

স্থানীয় সুত্রে জানায়, লবণ ব্যবসায়ী থেকে ইয়াবার হাত ধরে কোটিপতি হয়ে উঠে গিয়াস উদ্দিন। লবণের ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায় তার ইয়াবার চালান। তার সাথে রয়েছে, মো. ইব্রাহীমের ছেলে দিদার, আলী হোসেনের ছেলে মো. হোসেন, কালা মিয়ার ছেলে মইনু। গিয়াসকে টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান পাটায় বাচ্চু চকিদারের মেয়ে ইনু আক্তার। যা পরে ঝাম মিয়ার ঘোনা এলাকার একটি বসতবাড়িতে মজুদ করে তারা।

তারপর রয়েছে বিএনপি নেতা রাসেল মেম্বার। রাসেলের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে সিকদার পাড়ার মনসুর আলমের ছেলে মো. ইমরান, ইলিয়াছ ড্রাইভারের মেয়ে ঝুমা আক্তার, উত্তর পশ্চীম পাড়ার মনির আহমদ মেম্বারের ছেলে জিয়াবুল হক। আর কিউবা রাখাইনের রয়েছে বড় একটি সিন্ডিকেট। তাছাড়াও সে প্রশাসনের তালিক্তাভুক্ত মাদক কারবারি। এসব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মালেশিয়া মানবপাচার, ইয়াবাও একাধিক মামলা রয়েছে।

এলাকাবাসি বলছে, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যদের ম্যানেজ করে চলছে এসব ইয়াবা পাচার। তাদের সহযোগীতায় সাগর পথে চালান এনে চৌফলদন্ডী ব্রীজ হয়ে খামার পাড়ার পুর্বে ঝাম মিয়ার ঘোনায় আস্তানা স্থাপন করে। এবং ওখানে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ও সেবন কারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে।
অভিযুক্ত রাসেল মেম্বার এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি ইয়াবা ব্যবসা করি না। মানব পাচার ইয়াবা পাচারের বিরুদ্ধে আমি সব সময় কাজ করি। প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি। কিন্তু কিউবা রাখাইনের একটি চালানের খবর প্রশাসনকে জানিয়ে দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চৌফলদন্ডীর মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার বলে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। সম্প্রতি একটি ইয়াবার চালান প্রবেশের খবর সদর থানায় জানায়। ওই সময় পুলিশ আসলে মাদক পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর থেকে ওইসব মাদক ব্যবসায়ীরা আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে ইয়াবার অপর মুলহোতা চৌফলদন্ডীর গিয়াস উদ্দিনকে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার র‌্যাব ১৫ এর সিপিএসসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, র‌্যাব কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে। প্রতিনিয়ত বড় বড় চালান আটক হচ্ছে। তবে চৌফলদন্ডীর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, শুধু একটি এলাকা নয় কক্সবাজারের প্রত্যেক এলাকায় পুলিশের অভিযান রয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে যে সকল ব্যবসায়ীর কথা বলা হচ্ছে তার তথ্য আমাদের কাছে অবশ্যই আসবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!