ইসলামাবাদে এমবিবিএস ডাক্তার নিয়ে ধুম্রজাল!

শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ | ৬:২২ অপরাহ্ণ | 365 বার

ইসলামাবাদে এমবিবিএস ডাক্তার নিয়ে ধুম্রজাল!

কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদে এক ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য থামছে না। এছাড়া তার এমবিবিএস পাশ করা নিয়েও চলছে কানাঘুষা। তিনি হলেন নুর মোহাম্মদ জিন্নাত। তার অপচিকিৎসার শিকার হয়ে জনসাধারণ আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের শাহ ফকির বাজারে বিসমিল্লাহ মেডিকেল হলে তার চেম্বার। সাইন বোর্ডে নামের আগে ডাক্তার। নিচে ডিগ্রি হিসেবে এমবিবিএস (ঢাকা) সাথে এমসিএইস (শিশু) মেডিসিন ও শিশু চিকিৎসক এবং মা ও শিশু রোগ সহ সর্বরোগের বিশেষজ্ঞের বিশেষণ। জিন্নাত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোগী দেখেন।

বাসা চেম্বারের পাশেই। তার কাছে আশপাশের সহজ সরল খেটে খাওয়া শ্রমিক পরিবার বেশি যায়। ফি না নিলেও লিখে দেন অতিরিক্ত টাকার ঔষধ। ঔষুধের দোকানটি তার শ্বাশুড়ের বলে জানা যায়। সেখানে তার ব্যবসা চলছে ৪ বছর ধরে। তিনি চোরাই সরকারি ঔষুধও বিক্রি করেন। তার ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্সও নেই। অথচ বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের আইন অনুযায়ী, এমবিবিএস ও বিএমডিসির সনদ ছাড়া ডাক্তার শব্দ ব্যবহার ও প্রেসক্রিপশন করা দন্ডনীয় অপরাধ।

অপরদিকে জেলা সদরের ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম গঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মত গজে উঠা ফার্মেসীতে চেম্বার খুলে বিভিন্ন ডিগ্রী লিখে সাইনবোর্ড সাজিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক ব্যক্তি। শাহ ফকির বাজারের আশপাশ এলাকার শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের লোকজন না বুঝে তাদেরর কাছে যাচ্ছে।

বেলাল উদ্দীন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার এক ছেলে ঠান্ডা জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। পরে নুর মোহাম্মদ জিন্নাতের কাছে গেলে তাকে প্রেসক্রিপশনে লিখে ও হাতে তৈরি করা ঔষুধ কয়েক দফা দেওয়া হয়। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে নুর মোহাম্মদ জিন্নাতের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি হাইকোর্টের একটি আদেশ দেখান এবং সে আদেশে তার পক্ষে বৈধতা থাকলেও বিএমডিসির লাইসেন্স নাম্বার নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিবিএস পাশ করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হলে বিএমডিসির লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। বিএমডিসির লাইসেন্স নেই কেন জানতে চাইলে মোবাইলে কোন একজন লোকের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান জিন্নাত। এর বাহিরে আর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে তার প্রতারণার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক তোলপাড় হয়। এক পর্যায়ে রাতারাতি সাইনবোর্ড বদল করে মোঃ আবদুল হামিদ নামের অপর এক চিকিৎসকের নাম লিখে দেন সুচতুর জিন্নাত। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসন ও চিকিৎসকদের সংগঠনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে দিনদিন বেপরোয়া হয়ে ওঠে নুর মোহাম্মদ জিন্নাত। তারা প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করে উক্ত ভুয়া চিকিৎসক নুর মোহাম্মদ জিন্নাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!