আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে মহেশখালীতে ‘পাওয়ার হাব’ প্রকল্পের কাজ

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ | ৭:৩০ অপরাহ্ণ | 712 বার

আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে মহেশখালীতে ‘পাওয়ার হাব’ প্রকল্পের কাজ

মহেশখালীতে ১ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পাওয়ার হাব’ প্রকল্প আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ শেষ করেছে। এখন অধিগ্রহন জমি গুলোতে ১৩ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এলএনজি ও কয়লানির্ভর ৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরুর অপেক্ষায়। এটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ।

২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পরিকল্পনা অনুযায়ী মহেশখালী ‘পাওয়ার হাব’ নির্মাণের পদক্ষেপ নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট ১ হাজার ৩২৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় মহেশখালী ‘পাওয়ার হাব’র ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প’ অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘মহেশখালী পাওয়ার হাব’র প্রত্যেকটি ১৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ৩ হাজার মেগাওয়ার্ট সক্ষমতার এলএনজিভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হবে। যাতে ১৩ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। প্রস্তাাবনায় বলা হয়, এখানে স্থাপিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা এবং কাতার কিংবা অন্য কোন দেশ থেকে এলএনজি আমদানি করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের আওতায় ‘পাওয়ার হাব’ নির্মাণের জন্য কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া, হরিয়ারছড়া, পানিরছড়া, হোয়ানক, হেতালিয়া ও অমাবশ্যাখালী মৌজায় ৫ হাজার ৫৭৯ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এজন্য প্রথম দফায় ৫৭৪ কোটি ৫ লাখ ৩২ হাজার ৩৯০ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৭৪২ কোটি ৫৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। ইতোমধ্যে প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ শেষ হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি ও পূনর্বাসনের জন্য পিডিবির সাথে চুক্তিবদ্ধ এনজিও প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’ গত ১ এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও মহেশখালী পাওয়ার হাব প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর।

জানা গেছে, অধিগ্রহণকৃত জায়গায় ভূমি উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে পিডিবি। প্রকল্পের কাজ করতে দেশি বিদেশী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে মহেশখালী পাওয়ার হাব প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। পাওয়ার হাবের চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যান লে-আউট জমা দিয়েছেন ভারতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেসার্স স্টেজ এনার্জি সার্ভিসেস (ইন্ডিয়া) প্রাইভেট লিমিটেড।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালী পাওয়ার হাবে ইসিএ অর্থায়নে ১৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি প্লান্ট নির্মিত হবে। পিডিবি ও চায়না হুয়াডিয়ান হংকং কো. লি. যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াটের আরেকটি প্লান্ট প্রতিষ্ঠা করবে। একইভাবে একই সক্ষমতার আরেকটি প্লান্ট নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়ান সরকার জি টু জি পর্যায়ে সমঝোতার বিষয়ে একটি সভা গত বছর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমঝোতা স্মারকের বিবরণী মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। ১৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার অন্য আরেকটি প্লান্ট নির্মাণের জন্য পিডিবি ও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান কেপকো’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে অনেক আগে। পরবর্তীতে কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানটি কয়লার পরিবর্তে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী বলে পিডিবিকে জানায়। অন্যদিকে ৩৬০০ মেগাওয়ার সক্ষমতার একটি এলএনজি বেইজড কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সমঝোতা সই করেছে পিডিবি ও জিই ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেশন।

মহেশখালী পাওয়ার হাব এর ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পে নিয়োজিত পিডিবির প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, ‘পাওয়ার হাবের জন্য আমরা ইতোমধ্যে দুই দফায় ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯০ টাকা পাওয়া গেছে। আমরা প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ৫৫৭৯ দশমিক ৬০৩৫ একর ভূমি চিহ্নিত করে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।’
পিডিবি বিক্রয় বিতরণ বিভাগ কক্সবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণি জানান, ‘মহেশখালী পাওয়ার হাবের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপর ওই জমি উন্নয়ন করে সেখানে ৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হবে। পাওয়ার হাবে পিডিবির সাথে দেশি বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন।’

প্রকল্প পরিচালক পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো: আরিফুর রহমান ভূঞা বলেন, ‘পাওয়ার হাবটিতে কয়লা ও এলএনজি-ভিত্তিক ৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সহায়ক অবকাঠামো তৈরি করা হবে। অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করে ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে মহেশখালী পাওয়ার হাব এর ভূমি উন্নয়ন, সমুদ্র সুরক্ষা বাঁধ ও জেটি নির্মাণের জন্য আলাদা একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। পাওয়ার হাব প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2021

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!