এইমাত্র পাওয়া

x

আদালত পাড়ায় জালিয়াতচক্র বেপরোয়া: দেখার কেউ নেই

বুধবার, ০৮ মে ২০১৯ | ৮:০১ অপরাহ্ণ | 244 বার

আদালত পাড়ায় জালিয়াতচক্র বেপরোয়া: দেখার কেউ নেই

বেলাল আহমদ। নাম পাল্টে হয়ে গেলেন বেলাল আল আজাদ। নিজেকে কখনো সাংবাদিক, পুলিশ, পেশকার আবার কখনো আইনজীবী সহকারি পরিচয় দিয়ে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারণা ও জালিয়াতি। সর্বশেষ আইনজীবী সহকারি পরিচয়ে আদালত পাড়ায় মাদক, হত্যা, ধর্ষন, নারী নির্যাতন সহ বিভিন্ন মামলার আসামীদের জামিনে ছাড়িয়ে নেয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাজ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ কারণে কয়েকবার জেলও কেটেছে ওই বেলাল আল আজাদ। এতে করে একদিকে প্রকৃত আইনজীবী সহকারিদের সম্মান হানি ও বিচারিক কাজে বিঘ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতারণার শিকার হয়ে ভূক্তভোগিরা হারাচ্ছে সর্বস্ব।

জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের মৃত বদিউর রহমানের ছেলে বেলাল আহমদ ওরফে বেলাল আল আজাদ। পিতা মাতার ইচ্ছে ছিল ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মত মানুষ গড়বে বেলালকে। এ কারণে তাকে প্রথমে উখিয়ার রুমখাঁপালং দাখিল মাদ্রাসা ও পরে সোনারপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেয়। কিন্তু, পড়ালেখায় বেশী দূর যেতে পারেনি বেলাল। পিতা হারা অভাব অনটনের সংসারে দিনে দিনে পা বাড়ায় অপরাধ জগতে। কোন উপায়ন্তর না দেখে কক্সবাজার আইনজীবি সহকারি সমিতি থেকে বাগিয়ে নেয় নিবন্ধন। অবশ্য, পরে তার নিবন্ধ আইনজীবী সহকারি সমিতি থেকে বাতিল হয়ে যায়। এরপরও আইনজীবী সহকারির পদটি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে যাচ্ছে আদালত পাড়ায়।

আদালত পাড়ার একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পশ্চিম ফোমরা এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে রজি উল্লাহ নামের এক ইয়াবা কারবারিকে গত ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর উখিয়া থানার পুলিশ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে প্রেরণ করেন। যার মামলা নং উখিয়া থানা-১৯, জিআর-৩৯৪/১৭ এবং এসটি-৯৭৪/১৮। উক্ত মামলায় আইনজীবী সহকারি হিসাবে বেলাল আল আজাদ মৌখিকভাবে চুক্তি করেন যে আসামী রজি উল্লাহকে জেল থেকে বের করার। এতে মামলায় আইনজীবী হিসাবে এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুকে নিয়োগ করা হয়। উক্ত মামলার একাধিক শুনানি শেষে এক পর্যায়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করে ইয়াবা কারবারি রজি উল্লাহ। উক্ত জামিন নামা নথিপত্র সহ জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলারের স্বাক্ষর জাল করে একটি অঙ্গীকার নামা নি¤œ আদালতে প্রেরণ করার পর রজি উল্লাহ জামিন বহাল রেখে জেলা জজ আদালত গত ১৪ এপ্রিল জামিনের ফাইলটি কক্সবাজার জেলা কারাগারের প্রেরণ করেন এবং আসামীকে মুক্তি আদেশ দেন।

কিন্তু, উক্ত মামলার হাইকোর্টের ছায়াকপি, অঙ্গিকারনামার ছায়াকপি ও নথিপত্র গুলোর সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে কারাগারের ডেপুটি জেলারের নকল করা স্বাক্ষরটি ধরাপড়ে জেল সুপারের হাতে। এতে কারাকর্তৃপক্ষ আসামী ছেড়ে না দিয়ে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে উক্ত মামলার আইনজীবী নুরুল ইসলাম নুরুকে গত ৮ এপ্রিল ৪৪৮ নং স্বারকমুলে ১০দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। পরে উক্ত নোটিশের জবাব দেন এডভোকেট নুরুল ইসলাম। জবাবে বলা হয়েছে তার আইনজীবী সহকারি বেলাল আজাদ জাল ও জালিয়াতি মাধ্যমে ডেপুটি জেলারের স্বাক্ষর ও সীল সৃজন করেন। এতে সরল বিশ^াসে সে স্বাক্ষর করেন। একইভাবে ৯ এপ্রিল এডভোকেট ক্লার্ক সমিতি থেকে তার নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়।

জানতে চাইলে কক্সবাজার আইনজীবী সহকারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তুহিন সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বেলাল আল আজাদ এক সময় উক্ত সমিতির সদস্য ছিল। তবে এখন নেই। তিন বছর আগে তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ। সে সমিতির কর্তৃপক্ষ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আদালত পাড়ায় প্রতিনিয়ত একটি জালিয়াত চক্র গড়ে তোলে বিজ্ঞ বিচারক, বিজ্ঞ আইনজীবী, জেল সুপার, ইউপি চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে সম্পূর্ণ প্রতারণা করে যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে তাকে খুঁজছি। বেলাল আজাদ ইতিপূর্বে সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, বেলাল আল আজাদের বিরুদ্ধে আইনজীবী ইউছুপের স্বাক্ষর জাল করে ভূঁয়া কাগজপত্র সৃজন করার অপরাধে জিআর মামলা নং- ৪০৫/১৬ এবং মাদক আইনে জিআর- ৬৭৩ ও থানার মামলা নং-১৮ রয়েছে। একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ৫০০/১৬ সহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। যা বিচারধীন রয়েছে। এরপরও বেলাল আজাদ নানা কৌশলে দলবল নিয়ে সাধারণ মানুষের কাজ থেকে প্রতারণা করে যাচ্ছে। মামলায় সংশ্লিষ্টদের টাকা দেয়ার অজুহাতে, মামলা থেকে রেহায় ও জামিনে বের করা সহ নানা কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে আদালত পাড়ার প্রকৃত আইনজীবী সহকারিদের সম্মান হানি হচ্ছে। একই সাথে আদালতে ভূঁয়া কাগজপত্র সৃজন করায় বিচারিক কাজে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। সর্বস্ব হারাচ্ছে আদালত পাড়ায় আসা বিভিন্ন মামলার বাদি-বিবাদিরা।

প্রতারক ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান বেলাল আহমদ ওরফে বেলাল আজাদ আইনজীবী সহকারি ছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন, স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের কাজ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কৌশলে নানা সুবিধা আদায় করে যাচ্ছে। অপরাধ জগত থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করার সুবাধে এই পর্যন্ত বিয়ে করেছেন তিনটি। কিন্তু, এতকিছুর পরও রহস্যজনক কারণে আদালতপাড়া সহ পুরো জেলায় বিচরণ করছে। বেলালের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করছে না। এমনটি দাবি ভূক্তভোগীদের।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!