আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস: জানেননা কক্সবাজার সিভিল সার্জন

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২:১০ অপরাহ্ণ | 294 বার

আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস: জানেননা কক্সবাজার সিভিল সার্জন

আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস। প্রতিবছরের মত সারা দেশে আজকের দিবসটি পালিত হবে। তবে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কিছু এনজিওর কার্যক্রম দৃশ্যমান হলেও কক্সবাজারে স্বাস্থ্য বিভাগের কোন কার্যক্রম নেই বললেই চলে। বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস কবে তাও জানেন না খোদ কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা: মো: আবদুল মতিন। তিনি প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন রাখেন বিশ্ব ম্যালিরিয়া দিবস কবে?

বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ম্যালেরিয়ার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারসহ সারাদেশের ১৩ জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কক্সবাজারের সীমান্ত জেলা বান্দরবানও। এছাড়া মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে অন্যান্য রোগের চেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে ম্যালেরিয়া। যদিও এখন পর্যন্ত এ রোগের প্রকোপ দেখা দেয়নি তাদের মধ্যে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগনিয়ন্ত্রণ) রঞ্জন বড়–য়া রাজন বলেন, ২০১৮ সালে জেলায় ১ হাজার ২৯০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। চিকিৎসা নিয়ে ইতিমধ্যে আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভাষায় মশাবাহিত সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে ‘ম্যালেরিয়া’ অন্যতম। যার জন্য দায়ী প্লাজমোডিয়াম বংশের প্রোটিস্ট নামের একটি ‘অণুজীব’। এনোফিলিস নামক স্ত্রী মশার কামড়ে এই রোগ হয়।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৫ সালে জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৮৮ জন। ২০০৬ সালে মারা যায় ৩৪ জন, ২০০৭ সালে ২৫ জন, ২০০৮ সালে ৬০ জন, ২০০৯ সালে ৪ জন, ২০১০ সালে ১ জন, ২০১১ সালে ২ জন এবং ২০১২ সালে ১ জন মারা গেছেন। ২০১৩ সালে একজনও মারা যায়নি। ২০১৪ সালে মারা গেছে ৫ জন। ২০১৫ সালে মারা গেছে ৩ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে ১২১ জন। কক্সবাজার জেলার মধ্যে রামু ও চকরিয়া উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি। অপরদিকে উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে আশ্রিত ১০ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অসচেতনতা ম্যালেরিয়া বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। যে কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ করেছে সরকার। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কও করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ১০ জনের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু পাওয়া যায়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং তাদের থেকে ম্যালেরিয়া যেন বিস্তার লাভ না করতে পারে সে জন্য এক লাখ ৫০ হাজার কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ম্যালেরিয়া নিয়ে আমরা চিন্তিত। তবে এখন পর্যন্ত যাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে তাদের মধ্যে ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয়নি। কিন্তু মিয়ানমারের যে এলাকা থেকে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করেছে ওই এলাকাটি যেহেতু ম্যালেরিয়াপ্রবণ তাই ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে ম্যালেরিয়া ঝুঁকি আছে। তিনি বলেন, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশা নিধনে কীটনাশক ছিটানোর ব্যাপারেও প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মানুষগুলো যেভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, তাতে কীটনাশক ছিটানো সম্ভব হয় না।

চিকিৎসকরা জানান, কক্সবাজারে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধ ও নিরাময় কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় ম্যালেরিয়া প্রকোপ এলাকায় মশারি বিতরণ, পল্লিচিকিৎসকদের ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ, জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিসহ নানা কাজ চলছে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা: মো: আবদুল মতিন বলেন, ‘বিশ^ ম্যালেরিয়া দিবস কবে জানি না। আমি রাস্তায় আছি, দুই ঘন্টা পরে কল দেন। দুই ঘন্টা পরে এ প্রতিবেদক পুনরায় কল দিয়ে যোগাযোগ করা হলে সিভিল সার্জন প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন রাখেন বিশ^ ম্যালিরিয়া দিবস কবে? আর শুনেন আপনাদের (সাংবাদিক) বার বার বলি কোন নিউজের বক্তব্যের প্রয়োজন হলে অফিসে আসেন। চা খেতে খেতে কথা বলি’।

ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: আবুল কালাম বলেন, ‘ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ম্যালেরিয়ার কোন প্রকোপ দেখা যায়নি। তারপরও স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। যদি কোন সময়ে প্রকোপ দেখা দেয় তাহলে এসব মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে’।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!