এইমাত্র পাওয়া

x

আজ পহেলা বৈশাখ, বাঙালিয়ানায় গাঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন

রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯ | ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ | 238 বার

আজ পহেলা বৈশাখ, বাঙালিয়ানায় গাঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’–এমন কল্যাণ প্রার্থনা দিয়েই শুরু আজ পহেলা বৈশাখ, বাঙালিদের দিন। বিগত বছরের মলিনতা মুছে দিয়ে নতুন আলোয় স্নাত বাঙালি জাতি আজ প্রবেশ করছে নতুন বর্ষে।  আজ ১৪২৬ বাংলা সালের প্রথম দিন। আজ শুধুই বাঙালিয়ানায় মেতে ওঠা, গর্ব ভরে নিজেদের ঐতিহ্য, নিজেদের সংস্কৃতিকে ধারণ করার দিন। আজ আবহমান বাংলার রূপ প্রকৃতিকে বরণ করার দিন। আজ যে বাঁশি বাজবে নগরে বা গ্রামীণ প্রান্তরে তার সুর  অমলিন বাঙালির প্রাণ থেকে নিঃসরিত হবে, মিশে যাবে হাজার বছর ধরে এই বাংলায় আমাদের প্রপিতামহদের বাজানো বাঁশির সুরে। আজ মাটির টানে ফেরা, বাঙালির শেকড় সন্ধানের দিন।

প্রতিবছরের মতো আজও বাঙালি তার নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে সব বিভেদ ভুলে, নতুনের রঙ ধারণ করে। নগরে কিংবা গ্রামে থাকছে দিনব্যাপী নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। এই আয়োজনে নেই কোনও সংস্কারের ছোঁয়া, নেই বিধিনিষেধের বাড়াবাড়ি৷ সূর্যের হাসি ছড়িয়ে পুরনো বছরের সব গ্লানি, অপ্রাপ্তি, বেদনা ভুলে নব আনন্দে জাগবে বাঙালি জাতি।

১৪২৫ সাল ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতার বছর। বছরের শুরুর দিনে বাংলার সচেতন নাগরিকের কণ্ঠে নারীর প্রতি সহিংসতা ঠেকানোর প্রত্যয় বেজে উঠবে যেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত এক সপ্তাহজুড়ে পহেলা বৈশাখে প্রতিবাদী হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের ঘোষণা আসতে দেখা গেছে।

বাংলা বছরের প্রথম দিবস উদযাপনের সবচেয়ে বড় পরিচয়ই হলো অসাম্প্রদায়িকতা। বিশ্বজুড়ে এমন লোকায়ত এবং জনমানুষ সম্পৃক্ত ক্যালেন্ডার খুব কম আছে বলেই বাংলা নতুন বছর বাঙালিকে শেকড় চেনায়। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলা নববর্ষ বিশেষ উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এ উৎসবে অংশ নেয়।

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ এপ্রিল অথবা ১৫ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়।

উৎসব শুরু হয় বৈশাখের প্রথম দিন সকালে।

হিজরি সালের তারিখ গণনা করা হয় সন্ধ্যার পর থেকে। কারণ হিজরির দিন হিসাব করা হয় চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে। তাই চাঁদ উঠলেই সন্ধ্যা থেকে হিজরি নতুন দিন শুরু। আর বাংলা নববর্ষে নতুন বছরের দিন শুরু হয় সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকে। এর অন্যতম কারণ হলো কৃষিকাজ। সূর্য ওঠার পর যেমন কৃষিকাজ শুরু হয় তেমনই দিনটাও সেই ভিত্তিতেই গোনা শুরুর কারণেই দিনের আলোর সঙ্গে সঙ্গে বছর শুরুর রেওয়াজ।

চৈত্রের রুদ্র দিনগুলোর অবসান ঘটিয়ে আজ বাংলার ঘরে ঘরে নতুন বছরকে বরণের উৎসব। এটি বর্তমানে সবচেয়ে বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করার পাশাপাশি রঞ্জিত করবে সব বাঙালির চিন্তা, চেতনা ও জীবন বোধকেও।

ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফখরুল ইসলাম জানান, পহেলা বৈশাখে যেহেতু বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে; সেহেতু পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকল ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সৈকত ও পর্যটন স্পটগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। ফলে নিরাপদে পর্যটকরা কক্সবাজারে ঘুরতে পারবে বলে আশা করি।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় জানান, বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে জেলা প্রশাসন নানা আয়োজন করছে। তারমধ্যে সকাল ৭টায় বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণ, সকাল ৮টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, ৯টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকাল ৪টায় সমুদ্র সৈকতে ঘুড়ি উৎসব ও বিকাল ৫টায় বৈশাখী বীচ র‌্যালি করা হবে।

দিনটি উপলক্ষে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বাংলা বছরের প্রথম দিনকে বরণ করে নিতে সব কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

ঢাকা শহরে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের নতুন বছরের সূর্যবন্দনা। প্রথম দিনের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে গান গেয়ে বছরকে আহ্বান জানান। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানটের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা। ছায়ানটের আয়োজনের পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সব শ্রেণি-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। মাসব্যাপী কাজ করে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রার জন্য তৈরি করে রঙ-বেরঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর মূর্তি। যা কিছু অমঙ্গলজনক তা বিসর্জন দেওয়া হয় শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে।

দিনটিকে সুরে-তালে-আনন্দে বরণ করে নিতে সুরের ধারা ও চ্যানেল আই আয়োজিত বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভোর ৫টা থেকে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এখানে থাকবে নতুন বছরকে আবাহনের গান, দেশের গান, সকালের গান, আত্মপ্রত্যয়ের গান, আশা-জাগানিয়া গান। সারাদেশ থেকে সহস্রাধিক শিল্পী অংশ নিচ্ছেন এই অনুষ্ঠানে। থাকবেন দেশের বরেণ্য শিল্পীরাও। এ ছাড়া ধানমন্ডি ২ নম্বরে আছে মীনা ট্রাস্টের আয়োজনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!