জোয়ারের পানি লোকালয়ে

অরক্ষিত বেড়িবাঁধ, ঝুঁকিতে ৩০ হাজার মানুষ

মঙ্গলবার, ০৯ জুলাই ২০১৯ | ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ | 344 বার

অরক্ষিত বেড়িবাঁধ, ঝুঁকিতে ৩০ হাজার মানুষ

পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়ায় ৩০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়তে পারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। এছাড়া বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় ঝুঁকিতে রয়েছে লবণ ও চিংড়ী উৎপাদন।

সোমবার (৮জুলাই) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ইউনিয়নের মগনামা লঞ্চঘাট থেকে শরত ঘোনা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অরক্ষিত বেড়িবাঁধ উপচে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। জোয়ারের পানির ধাক্কায় ক্রমশ ভাঙ্গছে নাজুক বেড়িবাঁধ। এতে যেটুকু বেড়িবাঁধ অবশিষ্ট রয়েছে, তা খুব কম সময়ে বিলীন হতে চলেছে। এদিকে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করা সাগরের পানিতে ইউনিয়নের বাজার পাড়া, বহদ্দার পাড়া, শরত ঘোনা, উত্তর পাড়ার শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারী কার্যাদেশ পেয়ে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মগনামা ইউনিয়নের ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজ শুরু করে উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠান দুই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করলেও অরক্ষিত অবস্থায় রেখে দেয় প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির এমন অবহেলায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে শত কোটি টাকার সরকারী এ উন্নয়ন প্রকল্প।

স্থানীয় বাসিন্দা নেজামুল ইসলাম বলেন, বেড়িবাঁধটির সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়ে আসছি। কিন্তু ঠিকাদারের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ায় ধীরগতিতে সংস্কারকাজটি করছে। তাই কার্যাদেশ শেষ হয়ে গেলেও সংস্কার কাজ রয়ে গেছে অসম্পূর্ণ। কিছুদিন আগে বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজে নিয়োজিত সমস্ত যন্ত্রাদি ও গাড়ী সরিয়ে নিয়েছে ঠিকাদার। এতে আগামী বর্ষায় মগনামার লোকজন আবারো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই অতিদ্রুত বেড়িবাঁধের সংস্কারকাজ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু ও আইলার আঘাতে এখনো সামলে উঠতে পারেনি মগনামার মানুষ। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো। দুর্যোগের পর সরকার মগনামা ইউনিয়নে অন্তত ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছে। এখন বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে সাগরের পানি ঢুকলে এসব উন্নয়ন কাজ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে এলাকাবাসীর।
তিনি আরো বলেন, মগনামা ইউনিয়নে ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। বেড়িবাঁধের এই অরক্ষিত অংশ নিয়ে মগনামাবাসীর মাঝে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই আমি মগনামা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের আসন্ন প্লাবন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় সাংসদ ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, মগনামা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ অধিকাংশ সংস্কার করা হয়েছে। বেড়িবাঁধের জন্য ব্লক তৈরি করে রাখা হয়েছে। তবে বেড়িবাঁধের কিছু অংশ এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে। এটি দ্রুত সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

॥ পেকুয়ায় জোয়ারের পানি লোকালয়ে ॥

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি। এতে পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন অন্তত পাচঁ হাজার মানুষ।

সোমবার (৮জুলাই) দুপুরে উপজেলা মগনামা ইউনিয়নের শরত ঘোনা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মগনামা লঞ্চঘাট থেকে শরত ঘোনা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় এক কিলোমিটার অরক্ষিত বেড়ীবাঁধ উপচে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। জোয়ারের পানির ধাক্কায় ক্রমশ ভাঙ্গছে নাজুক বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করা সাগরের পানিতে ইউনিয়নের বাজার পাড়া, বহদ্দার পাড়া, শরত ঘোনা, উত্তর পাড়ার শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ জানান, বেড়িবাঁধ সংস্কারে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারের চরম অবহেলার কারণে মগনামা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের সময় পেরিয়ে গেছে। তাই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে সংস্কার কাজের মালামালও নিয়ে গেছেন। এতে মনে হচ্ছে এ বর্ষা মৌসুমেও মগনামার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সাগরের পানিতে ভাসতে হবে।

পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে কুলসুম বলেন, সামুদ্রিক জোয়ারের নোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় জনজীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষিকাজ এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত এ প্লাবনে অন্তত অর্ধশতাধিক চিংড়ী ঘেরের মাছ সাগরে ভেসে গেছে।

এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, মগনামা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ অধিকাংশ সংস্কার করা হয়ে গেছে। ব্লকও তৈরি করা হয়েছে। তবে সামান্য অংশ এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে। এটি দ্রুত সংস্কারে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!